বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। স্কুল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, সিলেবাস জটিল হয়েছে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত টিউশন এখন শুধু একটি অতিরিক্ত সুবিধা নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্কুলে একসাথে অনেক শিক্ষার্থীকে পড়ানো হয়। ফলে ব্যক্তিগত গাইডেন্স দেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। তাই অনেক অভিভাবক সন্তানের পড়াশোনায় উন্নতির উপায় হিসেবে হোম টিউশন বা প্রাইভেট টিউটর বেছে নিচ্ছেন।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কেন টিউশনের প্রয়োজন বাড়ছে
বড় ক্লাস সাইজ সমস্যা ও ব্যক্তিগত যত্নের অভাব
বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্কুলে একটি শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। শিক্ষক যতই দক্ষ হোন না কেন, সবার প্রতি সমানভাবে ব্যক্তিগত যত্ন দেওয়া কঠিন। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে।
স্কুলে ব্যক্তিগত যত্নের অভাব থাকলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা কঠিন হয়ে যায়। ব্যক্তিগত টিউশন এই জায়গাতেই বড় ভূমিকা রাখে। প্রাইভেট টিউটর একজন শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করে তার অনুযায়ী পড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারেন।
স্কুল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ
বর্তমানে শুধু বার্ষিক পরীক্ষা নয়, নিয়মিত ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট এবং বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।
এই পড়াশোনার চাপ সামাল দিতে অনেক শিক্ষার্থী সঠিক গাইডেন্সের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। ব্যক্তিগত টিউশন তাদের সময় ব্যবস্থাপনা, অধ্যায়ভিত্তিক প্রস্তুতি এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনে সহায়তা করে।
ব্যক্তিগত টিউশনের প্রধান সুবিধা কী
পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি
ব্যক্তিগত টিউশন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। একান্ত পরিবেশে পড়াশোনা করলে বিভ্রান্তি কম হয় এবং বিষয়বস্তু সহজে বোঝা যায়।
পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন
অনেক সময় দেখা যায় শিক্ষার্থী ক্লাসে পাঠ বুঝলেও পরীক্ষায় সঠিকভাবে লিখতে পারে না। প্রাইভেট টিউটর নিয়মিত অনুশীলন এবং মডেল টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনে সাহায্য করেন।
দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তা
সব শিক্ষার্থীর শেখার গতি এক নয়। কেউ দ্রুত শেখে, কেউ ধীরে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত টিউশন বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এখানে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সময় দেওয়া হয়।
আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি ও পড়ার আগ্রহ তৈরি
আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনেক শিক্ষার্থীর বড় সমস্যা। যখন একজন প্রাইভেট টিউটর নিয়মিত উৎসাহ দেন এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন, তখন শিক্ষার্থীর পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।
হোম টিউশন বনাম কোচিং কোনটি বেশি কার্যকর
হোম টিউশন সাধারণত বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক। একজন প্রাইভেট টিউটর সরাসরি শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে পড়ান অথবা অনলাইনে একান্তভাবে গাইড করেন। এতে শিক্ষার্থী তার সমস্যাগুলো খোলামেলা বলতে পারে।
অন্যদিকে কোচিং সেন্টারে একাধিক শিক্ষার্থী একসাথে পড়ে। সেখানে ব্যক্তিগত টিউশন এর মতো গভীর মনোযোগ সবসময় পাওয়া যায় না। তাই অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত টিউশন কেন জরুরি তা সহজেই বোঝা যায়।
কোন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত টিউশন বেশি প্রয়োজন
দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত টিউশন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে বারবার সমস্যায় পড়ে, তাদের জন্য আলাদা সহায়তা প্রয়োজন।
মেধাবী শিক্ষার্থীরাও অতিরিক্ত প্রস্তুতির জন্য ব্যক্তিগত গাইডেন্স নিতে পারে। বিশেষ করে বোর্ড পরীক্ষা বা ভর্তি পরীক্ষার আগে প্রাইভেট টিউটর সহায়তা করলে প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হয়।
অনেক অভিভাবক জানতে চান কোন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের টিউশন দরকার। সাধারণত প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত যেকোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন উপকারী হতে পারে, যদি তারা সঠিক গাইডেন্সের প্রয়োজন অনুভব করে।
অভিভাবকরা কীভাবে ভালো প্রাইভেট টিউটর নির্বাচন করবেন
সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে টিউটর নির্বাচন করা উচিত। প্রথমে টিউটরের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। কোন বিষয়ে তিনি দক্ষ, আগে কাদের পড়িয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল কেমন ছিল, সেসব বিষয় জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
দ্বিতীয়ত পড়ানোর পদ্ধতি বোঝা প্রয়োজন। একজন ভালো প্রাইভেট টিউটর শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা বুঝে পড়ান এবং নিয়মিত মূল্যায়ন করেন। শুধু পড়ানো নয়, বরং শিক্ষার্থীর দুর্বলতা চিহ্নিত করে ব্যক্তিগত গাইডেন্স দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া বর্তমানে অনেক নির্ভরযোগ্য টিউশন প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্বস্ত হোম টিউশন সার্ভিস রয়েছে, যেখান থেকে অভিভাবকরা মানসম্মত টিউশন সাপোর্ট পেতে পারেন। যেমন BacBon Tutor এর মতো প্ল্যাটফর্মে বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞ প্রাইভেট টিউটর বাছাইয়ের সুযোগ থাকে এবং শিক্ষার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী টিউটর নির্বাচন করা যায়। ফলে অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে সন্তানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিগত টিউশন নিশ্চিত করতে পারেন।
প্রাইভেট টিউশনের সুবিধা ও অসুবিধা
প্রাইভেট টিউশনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ব্যক্তিগত গাইডেন্স। এতে শিক্ষার্থীর দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।
তবে সময় ও খরচ বিবেচনা করাও জরুরি। সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া অতিরিক্ত টিউশন শিক্ষার্থীর উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, স্কুল শিক্ষার্থীদের টিউশনের প্রয়োজনীয়তা বর্তমান সময়ের বাস্তব চাহিদা। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকতে হলে সঠিক গাইডেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তিগত টিউশন কেন জরুরি এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনের উপর। তবে যদি কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে, আত্মবিশ্বাস হারায় বা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে চায়, তাহলে ব্যক্তিগত টিউশন কার্যকর সমাধান হতে পারে।
সন্তানের পড়াশোনায় উন্নতির উপায় হিসেবে সচেতনভাবে প্রাইভেট টিউটর নির্বাচন করলে ভবিষ্যতে একাডেমিক সাফল্যের পথ আরও সুগম হবে।